দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মেট্রোরেলের পিলারে ফাটল ও বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটির ঘটনায় কোনো ধরনের ত্রুটি, গাফিলতি, অবহেলা বা দুর্নীতি পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে একনেক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমআরটি লাইন-৬-এর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে। দ্রুত এটিকে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য অবস্থায় নেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে। কোনো ত্রুটি, গাফিলতি, অবহেলা কিংবা দুর্নীতির কারণে দুর্বলতা তৈরি হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে গুণগত মানকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। এর বিপরীতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে সেবার গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে অর্থ জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।
আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পের ঝুঁকি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাটির নিচে থাকা স্থাপনার বিষয়টি আগে হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। এখন এ ঝুঁকিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাটির নিচে কাজের কারণে ওপরের বাসাবাড়ি, অফিস ভবন, রাস্তাঘাটসহ কোনো স্থাপনায় ফাটল বা দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি মেরামতের দায়িত্বও নিতে হবে। এ দায়িত্ব তিন বছর পর্যন্ত থাকবে।
মেট্রোরেল প্রকল্পে নতুন নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ায় একদিকে ব্যয় বেড়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো, সব প্রকল্পের ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি স্থানান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা।
তিনি বলেন, শুধু জনবলের মধ্যে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও কীভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তর করা যায়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সমান্তরাল ও সম্পূরক প্রকল্প তৈরি করা হবে।
ঢাকায় পাতাল রেলপথের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, শহরে জনসংখ্যার চাপের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে যাতায়াতের বড় অংশ আন্ডারগ্রাউন্ডে নেওয়া জরুরি। গণপরিবহনের এ সুবিধার ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সাশ্রয় হবে, ভ্রমণের দূরত্ব ও সময় কমবে এবং মানুষের কর্মঘণ্টা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রকল্পে জ্বালানি সাশ্রয়ের হিসাবও করা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে প্রায় ৪১ হাজার টন তেল সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি ভ্রমণের দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে বলে হিসাব করা হয়েছে।
প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণ সুবিধা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলো দেরিতে শুরু করায় আগে যে ধরনের ঋণ সুবিধা বা কম খরচের সুবিধা পাওয়া যেত, এখন তা পাওয়া যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে এ ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে একটি কারিগরি কমিটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পের ব্যয় কিছুটা কমানো হয়েছে।
মেট্রোরেলের গুণগত মান ও নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি আবারও বলেন, অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে সেবার মান এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতা ও নীতিমালা মেনে চলা নিশ্চিত করাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমএম/